সৌদিগামী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ 

দেশে আটকে থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চলমান সংকট নিরসনে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ…

করোনায় আক্রান্ত টাইগার পেসার রাহী 

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার আবু জায়েদ রাহী। তাকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এর…

ট্রাম্প বিরোধী ভুয়া পেজ মুছে দিলো ফেসবুক 

এশিয়ান এবং আমেরিকান রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ১৫৫টি চীনা অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট প্রতিষ্ঠাটির পক্ষ থেকে জানানো…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিশ্ব

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কতটা ভয়ঙ্কর? 

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কতটা ভয়ঙ্কর?

ছয় বছর আগে এক জাহাজ থেকে খালাস করে প্রায় ৩ হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জমা করা হয় বৈরুতের বন্দরের কাছে এক গুদামে। মঙ্গলবার সেই গুদামে বিস্ফোরণে মারা গেছেন অন্তত ৭৮ জন, আহত হাজার হাজার মানুষ। বিস্ফোরণের ১০ কিলোমিটার জুড়ে স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২৪০ কিলোমিটার দূরের দেশ সাইপ্রাস পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে এর কারণে। মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পরপরই জিজ্ঞাসা উঠেছে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট?

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কী?

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দেখতে সাদা স্ফটিকের মত স্বচ্ছ এক ধরণের পদার্থ। কৃষকদের কাছে এই জিনিস পরিচিত কারণ মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব মেটাতে অ্যামোনিয়াম সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বাইরে কিন্তু আরেকটি কাজেও ব্যবহার হয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, তা হলো খনির বিস্ফোরণের কাজে!

‘মাটিতে পড়লে আপনি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খুঁজেই পাবেন না কারণ এটা বেশ স্বচ্ছ, কার্যকর অ্যামোনিয়ার সঙ্গে নাইট্রিক এসিড মিসিয়ে তৈরি হয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’, বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া সেলা।

সারা বিশ্বজুড়েই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট তৈরি হয় যার কারণে এর দামও বেশ সস্তা। তবে একাধিক দুর্ঘটনার কারণে এর বেশ কুখ্যাতি আছে।

কতটা ভয়ঙ্কর অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট?

নিয়ম মানলে খুব সহজভাবেই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছেন আন্দ্রেয়া সেলা। তবে বছরের পর বছর একে গুদামজাত করলে এর আশেপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠা শুরু করতেই পারে!

‘অল্প একটু আদ্রতার সংস্পর্শে এলেই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পাথরের মত শক্ত হয়ে যায়। তখনই এটা বিপদজনক হয়ে উঠে। এরপর আশেপাশে যদি সামান্য অগ্নিকান্ডও ঘটে তাহলে খুব দ্রুতই এর মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

যতক্ষণ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ অ্যামোনিয়াম দাহ্য তেলের মত জ্বলতেই থাকবে এবং আগুন নেভানো কঠিন হবে বলে বিবিসি রেডিওকে জানিয়েছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ ইনগ্রাম। আর এর ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারেও বলে জানিয়েছেন তিনি,‘এই পদার্থ নিজ থেকেই উওপ্ত হয়ে উঠতে পারে। আর একবার শুরু হয়ে গেলে আরও বড় অগ্নিকান্ড ঘটতে পারে। আর তা হলে কী হবে সেটা আমরা বৈরুতের দুর্ঘটনা থেকেই বুঝতে পারছি। ’

অ্যামোনিয়াম বিস্ফোরণে মাশরুম ক্লাউড কেনো?

পারমাণবিক বিস্ফোরণে সাধারণত মাশরুম ক্লাউড বা অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মত ধোঁয়ার আস্তরণ দেখা যায়। তবে মঙ্গলবার বৈরুতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে এমন ধোঁয়া দেখার পর অবাক হয়েছে সবাই।

‘আপনি একটি সুপারসোনিক শকওয়েভ দেখতে পাচ্ছেন যা বায়ু দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হচ্ছে এবং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে সাদা গোলাকার মেঘে যা কেন্দ্র থেকে বাইরে বেরিয়ে উপরের দিকে প্রসারিত হচ্ছে’, এমনটাই বলছিলেন অধ্যাপক সেলা।

‘ এখানে বায়ুর পরিমাণ দ্রুত বাড়ছিলো এবং তা হঠাৎ করেই শীতল হয়ে যায় এবং বাতাসে মিশে থাকা জলকণা ঘনীভূত হয়, যার ফলে এমন মেঘের সৃষ্টি।’

দুর্ঘটনার জায়গা থেকে কতটা ভয়ঙ্কর গ্যাস নির্গত হবে?

যখন কোথাও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত তখন এর থেকে বিষাক্ত গ্যাসের জন্ম হয়। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের কারণে এর থেকে কমলা রঙের এক ধরনের ধোঁয়া দেখা যায় যার ফলে বায়ু দূষণ ঘটতে পারে। বায়ুর পরিমাণ পর্যাপ্ত না হলে বিস্ফোরণের আশেপাশের এলাকার মানুষ ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধ্যাপক সেলা।

এর থেকে কী বোমা বানানো সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। বিশ্বজুড়ে সেনাবাহিনীতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দিয়ে বোমা বানানো হয়। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলোহামা শহরে টিমোথি ম্যাকভেইঘ নামের এক ব্যক্তি ফেডারেল ভবনে দুই টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে হামলা চালান। এতে পুরো ভবনটিই ধসে পড়ে এবং ১৬৮ জন মারা যান।


এর আগে যত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দুর্ঘটনা

> ১৯২১ সালে জার্মানির ওপ্পাউ শহরে ৪,৫০০টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত থাকা  এক কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে প্রায় ৫০০ মানুষ মারা যান।

> ১৯৪৭ সালের অ্যামোনিয়াম দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৫৮১ জন মানুষ মারা যান। গেলভাস্টন বে বন্দরে নোঙ্গর গেড়ে থাকা এক জাহাজ থেকে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত। জাহাজটিতে ২ হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট  মজুত  ছিলো।

> বৈরুতের আগে সবশেষ দুর্ঘটনাটি চীনে। টিয়ানজিনের এক কারখানায় অ্যামোনিয়াম ও অন্য রাসায়নিক পদার্থ বিস্ফোরণে ১৭৩ জন ব্যক্তি প্রাণ হারান।



Related posts