corona lockdown shibchar
সারাদেশে ১৪ দিন সর্বাত্মক শাটডাউনের সুপারিশ 

করোনার ডেলটা প্রজাতির ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে ১৪ দিনের কঠোর শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক…

অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার আনছে ফেসবুক 

শিগগিরই ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার নিয়ে আসবে ফেসবুক। গতকাল নিজের ওয়ালে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত…

ব্রাজিলের বিতর্কিত গোলে রাগে ফুসছে কলম্বিয়া 

কোপা আমেরিকায় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। গতকাল বুধবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ২-১…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিশ্ব

ইসরাইলি আগ্রাসন ও পশ্চিমা মিডিয়ার পক্ষপাতের নমুনা 

ইসরাইলি আগ্রাসন ও পশ্চিমা মিডিয়ার পক্ষপাতের নমুনা
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ কেবল সেখাকার মাটিতেই হচ্ছে না, লেখায়, ছবিতে এবং সংবাদের শিরোনামগুলোরতেও যুদ্ধ হচ্ছে এবং সেটা ফিলিস্তিনির মাটিতে কী ঘটছে সে বিষয়ে বিশ্বকে অবহিত করছে ।

সংবাদের ক্ষেত্রে ভাষা, পরিভাষা এবং সংবাদের জোর এমন প্রয়োজনীয় উপাদান যা স্পষ্টতা বা ওই প্রসঙ্গে তথ্য সরবরাহ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইলিদের পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের, মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর মিডিয়ার বিরুদ্ধে, যারা ইসরাইলের দখলদারী সহিংসতাকে প্রায়শই বিক্ষোভ ও দুর্ঘটনার সমীকরণে মিলিয়ে দিচ্ছে।

তবে ক্রমবর্ধমানভাবে, সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছা কর্মী ও ফিলিস্তিনিরা এই সমস্ত গণমাধ্যমকে জবাবদিহি করার জন্য এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষকে অবহিত করার লড়াইয়ে নেমেছে।

তারা পশ্চিমা মিডিয়ার এমন কিছু শিরোনাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যা এই যুদ্ধকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। 

জার্মান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘ডয়েচে ভেলে’ তাদের প্রায় অর্ধমিলিয়ন অনুসারীকে যে টুইট করেছে, তাতে লিখিছে, ‘গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইলের সাথে লড়াইয়ে ৯ শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন।’

এই শিরোনামে দেখা গেছে যে, শিশুরা যখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল তখন মারা গেছে, ঘটনা আসলে তা নয়।

কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন: বাচ্চারা কীভাবে যুদ্ধ করছিল?

মার্কিন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসেসিয়েট প্রেস (এপি) যে শিরোনাম সংবাদ প্রচার করেছে সেটা বিশ্বের ১৩০০ বেশির পত্রিকা প্রকাশ করেছে। এপির শিরোনাম ছিল, ‘রকেট হামলায় ২ ইসরাইলি নিহত, গাজায় মারা গেছে ২৬ জন, হামাসকে আক্রমণ করেছে ইসরাইল’। এখানে ইসরাইলিদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে রকেট হামলা দায়ী কিন্তু ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর জন্য কোনো কারণই ঘটেনি, অর্থাৎ তারা নিজেরাই মরেছে। এই ধরনের সংবাদ শিরোনাম ঘটনার গুরুত্ব অবশ্যই কমিয়ে দেয়।

শীর্ষস্থানীয় আরেকটি বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, একইভাবে শিরোনাম করেছে। তারা লিখেছে, হামাস ও ইসরাইলের সংঘাতে জেরুজালেমের অশান্তি গাজায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে’। এই শিরোনামে বোঝানো হয়েছে যে, দখলদারবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন সংগঠন হামাস হল ইসরাইলের সমান প্রতিপক্ষ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক অস্ত্রাগার সমর্থিত একটি পারমাণবিক-সজ্জিত রাষ্ট্র।

রয়টার্স আরও একটি বিভ্রান্তিমূলক শিরোনাম করেছে। সেখানে তারা লিখেছে, ‘ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি গাড়িতে পাথর মেরেছে, এই কারণে সংঘাত। তবে এই শিরোনাম প্রকাশ হওয়ার পরপরই একটি ভিডিও ফুটেজে দ্রুত প্রকাশিত হয় সেখানে দেখা যায়,ওই গাড়ির চালক তার গাড়িটি নিরীহ বেসামরিক মানুষের উপর দিয়ে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ডানপন্থী ট্যাবলয়েড, নিউইয়র্ক পোস্ট গাজার বেসামরিক জনগণের উপর ইসরাইলি বিমান হামলা ও হতাহতের কথা সম্পূর্ণ উল্টো লিখেছে। আসলে দু’জন ইসরাইরি নিহত হয়েছিল। তবে তারা লিখেছে, হামাসের বিমান হামলায় ৯ শিশুসহ ২০ ইসরাইলি নিহত হয়েছে।

পশ্চিমা মিডিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনিদের উপর সর্বশেষতম সহিংসতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় শব্দটি হল ‘সংঘর্ষ। তারা অ্যাটাক না বলে বলছে ক্ল্যাস।

সচেতন সিদ্ধান্ত হোক বা একটি সুবিধাজনক শব্দ হোক না কেন, ‘সংঘর্ষ’ শব্দটি কোনও পক্ষকেই দোষ দেয় না। ইসরাইলের পক্ষে এই শব্দটির ব্যবহার একটি বড় বিজয়। এর অর্থ দখলদারকে ফিলিস্তিনিদের দ্বারা প্রতিবাদের মূল কারণ হিসাবে দেখা যায় না।

নিউ ইয়র্ক টাইমস দুটি শিরোনাম করেছে এমন, ‘ওল্ড সিটি জেরুজালেম জুড়ে ইসরাইরি ও ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ’ এবং জেরুজালেমে রকেট ছুড়েছে জঙ্গি হামাস, বিমান হামলায় জবাব দিয়েছে ইসরাইল’।

একই ধরনের শিরোনাম দেখা গেছে সিএনএন, সিবিসি, এবিসি, এনবিসিসহ অন্যান্য মার্কিন ও পশ্চিমা প্রথমসারির মিডিয়াগুলোতে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



Related posts