ভ্যাকসিন আসার আগেই মারা যেতে পারে ২০ লাখ মানুষ, হু’র সতর্কতা 

করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগেই বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই…

আপনার আঙুলের নখ যেসব অসুখের লক্ষণ নির্দেশ করে 

কখনো কী ভেবেছেন আপনার আঙুলের হলুদ এবং ক্ষয়ে যাওয়া নখগুলো হতে পারে কঠিন সব রোগের উপসর্গ? হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার আঙুলের…

ডোপ টেস্টে পজেটিভ হওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন ২৬ পুলিশ সদস্য 

ডোপ টেস্টে পজেটিভ হওয়ায় ২৬ পুলিশ সদস্য বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিনোদন

উগ্রবাদ আর মৌলবাদের বিরুদ্ধে একাই লড়ছেন কঙ্গনা 

উগ্রবাদ আর মৌলবাদের বিরুদ্ধে একাই লড়ছেন কঙ্গনা

সুশান্ত সিংহ রাজপুত-কাণ্ডে মুখ খোলা ও মুম্বাইকে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’ বলায় বেশ তোপের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলায় মহারাষ্ট্র সরকারের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। মুম্বাইতে নিরাপদ বোধ করছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইটা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন কঙ্গনা রনৌত। রোববার বিকেলে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎসিংহ কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন বোন রঙ্গোলি রনৌত।

মুম্বাইয়ের পালি হিলে কঙ্গনার অফিসের একাংশ ভাঙা এবং তা ঘিরে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের মুখ্য পরামর্শদাতা অজয় মেহতাকে তলব করেছিলেন কোশিয়ারি। সেই বৈঠকে কঙ্গনার মতই কোশিয়ারিও মত ছিল, পালি হিলের অফিসের একাংশ ‘অবৈধ’ নয়। তবে মুম্বাই পৌরসভা নিজের যুক্তিতে অনড় থেকেছে। ফলে এ দিন রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের কঙ্গনার হাত শক্ত হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও রাজ্যপালের সঙ্গে কঙ্গনার ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা সবিস্তার উল্লেখ না করলেও বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উদ্ধব সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। কঙ্গনার দাবি, ‘‘সুশান্ত-কাণ্ডে মুখ খোলার জন্যই আমাকে নিশানা করা হচ্ছে। হেনস্থা করা হচ্ছে আমাকে। আমি এখানে নিরাপদ নই।’’ সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘মুম্বাই আমার কর্মস্থল। আমাকে এখান থেকে উপড়ে ফেলা যাবে না।’’

পাশাপাশি কঙ্গনা জানিয়েছেন, নিজের প্রতি অবিচারের কথা রাজ্যপালকে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কী রকম অন্যায়-অবিচারের শিকার হতে হয়েছে তা (রাজ্যপালকে) জানিয়েছি। রাজ্যপাল নিজের মেয়ের মতো আমার কথা মন দিয়ে শুনেছেন। আশা করি, সুবিচার পাবো, যাতে এই সিস্টেমের উপর সমস্ত নাগরিকের পাশাপাশি কমবয়সি মেয়েদেরও আস্থা ফিরে আসবে।

রাজ্যপালের পাশাপাশি পুরনো ‘শত্রু’ করণী সেনাকেও পাশে পেয়েছেন কঙ্গনা। পুরনো ‘শত্রুতা’ ভুলে কঙ্গনার পক্ষে তারা মুখ খুলেছিল আগেই। এবার কঙ্গনাকে যাবতীয় সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিলেন করণী সেনার লোকেরা। মহারাষ্ট্র সরকার বনাম কঙ্গনা রনৌতের ‘দ্বন্দ্বে’ তারা যে অভিনেতার দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন, তা আবারো স্পষ্ট করল করণী সেনা। এ দিন মুম্বাইয়ে কঙ্গনার বাড়িতে গিয়ে ওই কট্টরপন্থী সংগঠনের আশ্বাস, শহরে তাঁর নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখবে তারা।

সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পরই মুম্বাই পুলিশ তথা মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব কঙ্গনা। মুম্বইকে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর’ বলে তোপও দেগেছেন তিনি। তার পরই ‘প্রতিঘাত’ শুরু করে উদ্ধব ঠাকরে সরকার। কঙ্গনাকে মুম্বইতে পা রাখতে দেবেন না বলে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। ঘটনাচক্রে এর পরই গত ৯ সেপ্টেম্বর কঙ্গনার পালি হিলের অফিসের ‘অবৈধ’ নির্মাণ ভাঙতে শুরু করেছিল শিবসেনা পরিচালিত বৃহন্মুম্বই পৌরসভা (বিএমসি)।

কঙ্গনার আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাতে স্থগিতাদেশ দিলেও উদ্ধব সরকারের সঙ্গে অভিনেতার সংঘাতের বিরতি হয়নি। বরং তা আরও তীব্র মাত্রা পায়। এরপর খারে কঙ্গনার ফ্ল্যাটের ‘বেআইনি’ অংশ ভাঙতে তৎপর হয় বিএমসি। এর পরই একের পর এক টুইটে উদ্ধবের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেন কঙ্গনা। উদ্ধবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে টুইটারে বলেন, ‘‘আজ আমার ঘর ভেঙেছে, কাল তোর অহঙ্কার ভাঙবে।’’

সংঘাতের এই আবহে কঙ্গনার পাশে ছিল করণী সেনা। যদিও বছর দুয়েক আগে ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’ ফিল্মের জন্য করণী সেনার রোষের মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা। তবে সে সব অতীতের গর্ভে ঠেলে নয়া প্রেক্ষাপটে কঙ্গনারই ‘সাহায্যদাতা’র ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে করণী সেনাকে। তার সমর্থনে ইতোমধ্যেই গোরক্ষপুরে মিছিল বার করেছে সংগঠনটি। সেখানে সঞ্জয় রাউতের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। সঙ্গে সঞ্জয়ের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিও জোরালো হয়।



Related posts