এবার করোনার কবলে দিশা পাটানির পরিবার 

এবার করোনার কবলে পড়েছে বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির পরিবার। বাঘি টু সিনেমার নায়িকার বাবা জগদীশ সিং পাটানির কোভিড রিপোর্ট পজেটিভ…

ভারতে হাসপাতালে আগুন, ৮ করোনা রোগীর মৃত্যু 

ভারতের আহমেদাবাদে একটি করোনা হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার…

যে ৬টি সত্য পুরুষেরা সঙ্গীর কাছে লুকিয়ে থাকে! 

একটি সম্পর্কে নারী এবং পরুষের মাঝে অনেককিছু হয়ে থাকে। এরমধ্যে বেশিরভাগ বিষয় ভালোবাসার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং যেটি দুজনের সম্পর্ক…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিশ্ব

‘করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিয়ে আমি গর্বিত’ 

‘করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিয়ে আমি গর্বিত’

করোনা ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। প্রতিনিয়তই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এ অবস্থায় করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চলছে নানা গবেষণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কমপক্ষে প্রায় ৩৫ টি কোম্পানি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে।

এরমধ্যে সামনের সারিতে রয়েছে চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস ও যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা থেরাপেউটিকস। এই দুই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়েছে। চীনে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ১৯ মার্চ। এই পরীক্ষায় করোনার উৎসভূমি উহানের ১০৮ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

এই ১০৮ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকিসন নেয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন হোটেলের মালিক ৩০ বছরের জিয়াং ইয়াফেই। দেশটির সংবাদ মাধ্যম চায়না মর্নিং পোস্টকে তিনি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়-

ভ্যাকিসন পরীক্ষার জন্য স্বেচ্ছাবেক হলেন কেন?
এর জবাবে জিয়াং ইয়াফেই বলেন, গত জানুয়ারিতে উহানে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে শুরু করি। মার্চের মাঝামাঝিতে এক বন্ধু ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিষয়টি আমাকে জানান। শুরুতে আমি ভয় পেয়েছিলাম কারণ ভ্যাকসিন কাজ করবে কিনা সেটা এখনো অনিশ্চিত। আমার বন্ধুরা জানায়, এটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য আমার দেহে এক ধরনের ভাইরাস ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হবে। আমি ইন্টারনেটে এ বিষয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছি।

তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, যেহেতু একাডেমি অব মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সে (চীনা সামরিক মেডিকেল গবেষণা ইনস্টিটিউট-পিএলএ) ও ক্যানসিনো এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে তাহলে নিশ্চয়ই তারা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আমার পিএলএর প্রতি আস্থা আছে। আমার অনেক আত্মীয় সেখানে কাজ করতেন। এসব ভেবে আমি ট্রায়ালের জন্য রাজি হই। কিন্তু, আমি বাড়িতে জানাইনি। কারণ আমি চাইনি আমার মা-বাবা দুশ্চিন্তা করুক।

ভ্যাকসিন দেয়ার সময় কি ভয় পেয়েছিলেন?
ইয়াফেই বলেন, ১৯ মার্চ সকালে আমাকে ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপরই আমাকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। পিএলএ কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপে আমার নম্বর ছিল ০০৬, অর্থাৎ আমার আগে পাঁচ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ইনজেকশন দেয়ার আগে আমার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। পরে আমি জানতে পারি আরো পাঁচ হাজার ২শ মানুষ স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

তিনি বলেন, আমার কোনো ব্যথা লাগেনি। ইনজেকশন দিতে ১০ সেকেন্ডের মতো সময় লেগেছে। তখন আমার নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছিল। আমি বুঝতে পারি করোনাভাইরাস মহামারিতে ভ্যাকসিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই বাজারে ছাড়ার আগে এর সঠিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা জরুরি। এরকম একটি কাজের অংশ হতে পেরে আমার বেশ ভালো লেগেছে।

ভ্যাকসিন দেয়ার পর স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন ছিল?
এই স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রথম দুইদিন আমার গায়ে হালকা জ্বর ছিল। তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনেকটা সর্দিজ্বরের মতোই ক্লান্ত লাগছিল। তৃতীয় দিন আমার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। এরপর থেকে আমি সুস্থ।

১০৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ মাত্রার ডোজের ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য তিনটি দলে ভাগ করা হয়। আমি নিচের গ্রুপে ছিলাম তাই কেবল একটা ইনজেকশেনই দেয়া হয় আমাকে। মধ্যেম গ্রুপের সদস্যদেরও একটা ইনজেকশন দেয়া হয়। উচ্চ মাত্রার গ্রুপের সদস্যদের দুটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে।

ভ্যাকসিনের ফলাফল কবে?
আমার কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে গত ২ এপ্রিল। এরপর আমার সিটি স্ক্যান করা হয়। গবেষকরা পরীক্ষার জন্য আমার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা জানান, রক্তে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা তা দুই সপ্তাহ পর জানা যাবে।

তবে আমাকে ফলাফল জানানো হবে কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু এর পরের পাঁচ মাস আমাকে আরো চারবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন আমার শরীরে থাকবে ততদিনই অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

করোনা মহামারীতে আপনার ব্যবসায় কী প্রভাব পড়েছে?
ইয়াফেই বলেন, উহানে আমার রেস্টুরেন্ট আছে। গত তিন মাসে প্রায় ৭০ হাজার ডলার লোকসান হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি লকডাউনের দুদিন আগে আমি রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেই। অনেকের কাছেই তখন শুনছিলাম যে, লকডাউন হতে পারে। রেস্টুরেন্টের কর্মচারী যাদের বাড়ি উহানের বাইরে তারা যাতে বাড়ি ফিরে যেতে পারে সেজন্য আমি লকডাউন ঘোষণার আগেই ছুটি দিয়ে দেই। রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেই।

লকডাউন শেষ, এখন কেমন লাগছে?
এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় রেস্টুরেন্ট খোলার পরিকল্পনা আছে। জীবাণুমুক্ত ও সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করার পরই রেস্টুরেন্ট খুলবো। উহানের পরিস্থিতি দিনদিন ভালো হচ্ছে। শহরটাকে বাঁচাতে পেরেছি এজন্য আমরা গর্বিত। আশা করছি, শিগগিরই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। সেইসাথে আমরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো।

Related posts