উত্তর কোরিয়ার যে মিসাইল আতঙ্ক হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের জন্য 

করোনার মাঝেও ঝমকালো কুজকাওয়াজে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে উত্তর কোরিয়া। সেই কুজকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয় ‘হোয়াসং-১৫’ ব্যালিস্টিক…

কলকাতায় চিকিৎসা নিতে এখনই বাংলাদেশিদের না যাওয়ার পরামর্শ 

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যের সংখ্যা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একদিন কমে কো আরেক দিনে বেড়ে যায় শনাক্ত ও আক্রান্ত। প্রতিবেশি…

ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’র বিরুদ্ধে বাস্তবের মির্জাপুর সাংসদের টুইট 

ভারতের ওয়েব সিরিজ নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। প্রতিবার ওয়েব সিরিজ নিয়ে কেউ না কেউ অভিযোগের আঙুল তুলছেনই। এবার সেই আঙুল উঠেছে…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

চলমান

করোনা নিয়ে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা দরকার 

করোনা নিয়ে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা দরকার
An airline passenger wearing a mask makes his way through the International Terminal at San Francisco International Airport Saturday, March 7, 2020, in San Francisco. As cases of the coronavirus surge in Italy, Iran, South Korea, the U.S. and elsewhere, many scientists say it's plain that the world is in the grips of a pandemic — a serious global outbreak. (AP Photo/David J. Phillip)

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মুদি দোকান, সুপার শপগুলোতে ভিড়। মানুষজন টয়লেট পেপার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পানি কিনে ঘর ভর্তি করে ফেলছেন। পেনসিলভ্যানিয়ায় ওয়ালমার্টের সামনে মাঝ রাত্রি থেকে ভিড় করেছেন সেখানকার সাধারণ নাগরিক।

এতে কোন দোষও দেখছেন না মার্কিনী বিশেষজ্ঞরা। মূলত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন সেদেশের নাগরিকরা। তবে ভাইরাস সম্পর্কে সঠিকভাবে জানলে ও নিজে পরিচ্ছন্ন থাকলে এসব হুজুগে কাজ থেকে বিরত থাকা সম্ভব বলে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

১. নিরাপদে কীভাবে ভ্রমণ করা সম্ভব?

বসন্তের ছুটি শুরু হয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বাইরে দেশগুলোর ছাত্ররা ইতিমধ্যে দেশ ছাড়া শুরু করেছেন। এই অবস্থায় কীভাবে নিরাপদে ভ্রমণ করা সম্ভব সেই বিষয়ে প্রশ্ন আছে অনেকেরই।

এ বিষয়ে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন(এএএ) একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাদের মতে সেই বিবৃতি সঠিক ভাবে অনুসরণ করে নিরাপদে ভ্রমণ সম্ভব।

‘যেকোনো ভ্রমণের আগে সেখানকার পরিস্থিতি জেনে নেয়া ভালো। এটা করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ জেনে নিন। আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলুন। তারা কতটা সুরক্ষা দিতে পারবেন সেটা জেনে নিন। আপনার ভ্রমণ বীমা সুরক্ষার আওতায় কিনা সেটাও আপনার জানা দরকার।’

অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের কাজে চীন ও ইরান যেতে অনুৎসাহী করা হচ্ছে। যেতে না বলা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতেও। জাপান থেকে ফিরলে সব বয়স্কের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। আশেপাশের দেশগুলোতে গেলেও মার্কিন দূতাবাসগুলোতেও জানিয়ে রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো দেশের ভ্রমণকারীরাই এই নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন।

২. কীভাবে সন্তানদের সুরক্ষিত রাখবেন অভিভাবকরা?

এ বিষয়ে ভ্যান্ডারবিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক উইলিয়াম শেফনার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, বাবা-মা’রা যেভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখছেন ঠিক সেভাবেই যত্ন নেবেন শিশুদেরও। সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে বাচ্চারা যেন একটু পরপরই হাত ধুচ্ছে।

শেফনার আরও পরামর্শ দিয়েছেন, যদি কোন এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য। সোজা কথা থাকতে হবে বাসায়।

উহানে প্রথম ৪২৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৫ বছরের নীচে কোন শিশুকে পাওয়া যায়নি। গবেষণাকারী চিকিৎসকরা বলছেন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

৩. কীভাবে নিজের মুখ স্পর্শ না করে থাকবেন?

নিউমোনিয়ার মত ফুসফুসজনিত সমস্যাগুলো মূলত অসুস্থ ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুতুর মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। এরপর এই জীবাণুগুলো সংস্পর্শের মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তির নাক,মুখ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে অসুস্থ করে তোলে। তাই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মুখমণ্ডল স্পর্শ না করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে মুখ স্পর্শ করা মানুষের চিরন্তন অভ্যাস। এমনকি মায়ের পেটে থাকা সন্তানও নিজের মুখমণ্ডল স্পর্শ করে। এটি মানুষের মজ্জাগত।

এক্ষেত্রে সবার আগে নিজের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা বিশেষ ভাবে জরুরী। বাইরে থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। মুখে হাত দেয়া বন্ধ করতে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। বাসায় থাকলে হাত ধোঁয়া বিশেষভাবে জরুরী।

চোখে যেন হাত না পড়ে সেজন্য চোখে চশমা ব্যবহার করা উচিৎ। প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুলগুলো মুঠিবন্ধ করে রাখুন যাতে কারণে-অকারণে মুখে হাত না যায়। সর্বোপরি নিজের সচেতনতাই এখানে বিশেষ জরুরী বিষয়।

৪. স্যানিটাইজার কী করোনা প্রতিরোধে উপকারী?

আমেরিকান সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের(সিডিসি) পরামর্শ অনুযায়ী হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পেছনে না ছুটে সাবান কিংবা ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল ব্যবহার করলে করোনার জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সিডিসির মতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে সাবান এবং পানি অনেক বেশি উপকারী। আবার সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অ্যালকোহল দিয়ে বানানো স্যানিটাইজারও এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্যানিটাইজার ও টয়লেট পেপার জমানো শুরু করেন আক্রান্ত দেশগুলোর সাধারণ জনগণ। স্যানিটাইজারের বদলে এখন অনেকেই অ্যালকোহল দিয়ে হাত পরিষ্কার করছেন।

৫. কারা পড়বেন ফেস মাস্ক?

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের ফেস মাস্ক পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে সিডিসি বলছে সুস্থ মানুষদের জন্য  মাস্ক ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস ঠেকানোর কোন উপায় নেই। তাই সুস্থ মানুষদের মাস্ক ব্যবহার করলেও চলছে।

মাস্ক ব্যবহার করলে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় নেই তবে দূষণজনিত রোগ থেকে খানিকটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে সুস্থ মানুষদের মাস্ক ব্যবহারের কোন দরকারই নেই। কারণ ‘এমন কোন উদাহরণ নেই যে সুস্থ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে কেউ রোগ থেকে দূরে থাকতে পেরেছে। এর পেছনে দরকার সচেতনতা।’



Related posts