corona lockdown shibchar
সারাদেশে ১৪ দিন সর্বাত্মক শাটডাউনের সুপারিশ 

করোনার ডেলটা প্রজাতির ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে ১৪ দিনের কঠোর শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক…

অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার আনছে ফেসবুক 

শিগগিরই ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার নিয়ে আসবে ফেসবুক। গতকাল নিজের ওয়ালে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত…

ব্রাজিলের বিতর্কিত গোলে রাগে ফুসছে কলম্বিয়া 

কোপা আমেরিকায় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। গতকাল বুধবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ২-১…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিশ্ব

কাতারে ‘গায়েব’ হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকরা 

কাতারে ‘গায়েব’ হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকরা

অভিবাসী শ্রমিকদের অত্যাচার, নির্যাতন করার অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে বেশ আগেই উঠেছে। এবার নতুন অভিযোগ, শ্রমিকরদের মধ্যে যারা মানবাধিকারের বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করছে তাদেরই ‘গায়েব’ করে দিচ্ছে কাতারি নিরাপত্তাবাহিনী।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, কাতারে কেনিয়ার এক নিরাপত্তা প্রহরী যিনি অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা লিখতেন, তাকে ‘জোরপূর্বক নিখোঁজ করা হয়েছে’।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার অন্তর্ভুক্ত অধিকার গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট বলছে, ম্যালকম বিদালী নামের ওই কেনিয়ানকে এক সপ্তাহ আগে কাতারি নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে একটি অজ্ঞাত স্থানে রেখেছে।

২০১৬ সালে নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করতে কাতারে পৌঁছে বিদালী গত বছর বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে লিখতে শুরু করেছিলেন।

“নোহ” ছদ্মনামে রচিত তার নিবন্ধগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু স্বল্প বেতনের অভিবাসীদের কাজের ও জীবনযাত্রার অন্তর্দৃষ্টি উঠে আসত। বিদালী উপচে পড়া ভিড়ের আস্তানা (যেখানে অভিবাসীরা গাদাগাদি করে থাকে), বাজেয়াপ্ত পাসপোর্ট, গোপনীয়তার অভাব এবং উন্নততর চিকিত্সার জন্য তার ব্যর্থ প্রচেষ্টার বর্ণনা করেছিলেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গ্রেপ্তারের আগের দিন, বিদালী কাতারে তার জীবনের কথা কাধিক নাগরিক সমাজ সংস্থা এবং ট্রেড ইউনিয়নকে বলেছিলেন।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে যখন অনেকে কাতার বিশ্বকাপ বয়কট করার হুমকি দিচ্ছে, তখন সেটা বন্ধ করতে অভিযোগকারীদের আটকানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো কাতারি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে যে, তাকে কোথায় আটক রাখা হয়েছে সেটা জানাতে।

তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা তার সুস্থতা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং তার বৈধ মানবাধিকার কাজের জন্য তাকে প্রতিশোধ নিতে তাকে আটক করা হয়েছিল। আমরা কর্তৃপক্ষকে ম্যালকমের হদিস প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছি এবং নির্যাতন ও অন্যান্য খারাপ আচরণ থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে নিশ্চয়তা চাচ্ছি … যদি ম্যালকমকে তার মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করার জন্য আটক করা হয় তবে তাকে তাত্ক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, নিরাপত্তা প্রহরীরা বেতন ও শর্ত নিয়ে কাতারে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে, বেশ কয়েকজন শ্রমিককে এই শ্লোগান দিতে দেখা যায়: ‘কোনও অর্থ নেই, তো কোনও কাজ নেই।’

গত নয় মাসে কাতার তার শ্রমখাতে বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে, যার মধ্যে এক মাসের সর্বনিম্ন মজুরি ১০০০ রিয়াল (১৯৫ পাউন্ড) অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। যদি নিয়োগকর্তারা খাবার এবং আবাসন সরবরাহ না করেন তাহলে শ্রমিকদের অবশ্যই আরও ৮০০ রিয়াল (১৫৫ ডলার) অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করতে হবে। এটি কাফালা (স্পনসরশিপ) ব্যবস্থাকে মূলত শেষ করেছে, যার অধীনে শ্রমিকরা তাদের নিয়োগকর্তার অনুমতি ব্যতীত চাকরি পরিবর্তন করতে অক্ষম। এই নিয়ম অনেক শ্রমিককে শোষণের জন্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শ্রম দেওয়ায়।

দ্য গার্ডিয়ানের কাছে এক লিখিত জবাবে কাতারি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, গত ৫ মে একজন কেনিয়ার নাগরিককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং কাতারের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের জন্য তদন্তাধীন রয়েছে।

একজন সরকারী কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেছেন, ‘ব্যক্তিকে আইনের আওতায় তার সমস্ত অধিকার বজায় রাখে। তদন্তের সমস্ত প্রক্রিয়া কাতারি আইন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।’

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ান এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে কাতারে দশ বছরে ১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ (ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা) থেকে মারা গেছেন সাড়ে ছয় হাজারের বেশি প্রবাসী শ্রমিক।

দেশগুলোর শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিভিন্ন সংগঠন এবং দূতাবাস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গার্ডিয়ান জানায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বরের যে রাতে কাতার আয়োজক দেশ হওয়ার স্বীকৃতি পায় তার পর থেকে ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন; যারা এই পাঁচটি দেশের নাগরিক!

গণমাধ্যমটি গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এতে মোট ৫ হাজার ৯২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে কাতারে থাকা পাকিস্তান দূতাবাস জানিয়েছে গত এক দশকে ৮২৪ পাকিস্তানি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। আর বাংলাদেশের মারা গেছে ১০১৮ জন।



Related posts