corona lockdown shibchar
সারাদেশে ১৪ দিন সর্বাত্মক শাটডাউনের সুপারিশ 

করোনার ডেলটা প্রজাতির ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে ১৪ দিনের কঠোর শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক…

অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার আনছে ফেসবুক 

শিগগিরই ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার নিয়ে আসবে ফেসবুক। গতকাল নিজের ওয়ালে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত…

ব্রাজিলের বিতর্কিত গোলে রাগে ফুসছে কলম্বিয়া 

কোপা আমেরিকায় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। গতকাল বুধবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ২-১…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

লিড নিউজ

বাংলাদেশকে কেন ‘সতর্ক’ করলো চীন 

বাংলাদেশকে কেন ‘সতর্ক’ করলো চীন

দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্লেষকদের কাছে কোয়াড জোটে যোগদানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সতর্কতা অবাক করার মতো বিষয়। কারণ হিসেবে তারা মনে করেন, ঢাকা ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তার খেলোয়াড় হিসাবে খুব বেশি বিবেচিত না।

কানওয়াল সিবাল, যিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩৬ বছরের বেশি চাকরি করেছেন, তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কোনও উপযুক্ত নৌ-বাহিনী নেই এবং তারা সামুদ্রিক সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারবেন না।

তিনি বলেন, কোয়াডে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এমন কোনও কথা তিনি শুনেন নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের সমন্বয়ে গঠিত জোট এই অঞ্চলটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে সমুদ্র, সাইবার ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেইজিং এটিকে এমন একটি ‘চক্র’ হিসাবে বিবেচনা করে, যা একটি নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু করতে পারে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গ্রুপিংয়ের সম্প্রসারণ নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সিবাল চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে করে এভাবে সামারাইজ করেছেন, চীন বাংলাদেশকে শুধু ভারতেকেই বেশি কাছাকাছি টানার ব্যাপারে সতর্ক করেনি, সেই সঙ্গে ভারতের পাশাপাাশি পূর্ব দিকের জাপানের ব্যাপারেও করা হয়েছে।

ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক আলী রিয়াজ গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের সংকেতের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তখন তত্কালীন উপ-পররাষ্ট্রসচিব স্টিফেন বিগুন ঢাকা সফর করেছিলেন এবং ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রতি বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।

আলী রিয়াজ বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য বাংলাদেশের কোয়েডে যোগদানের ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রোধ করার পূর্ব-উদ্যোগমূলক পদক্ষেপ ছিল।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন, কোয়াডে বাংলাদেশ অংশ নিলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যথেষ্ট ক্ষতি করবে।

তার মন্তব্যর তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, লি’র বার্তা আগাম,
আফসোসযোগ্য এবং আক্রমণাত্মক। তবে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি আমরাই ঠিক করবো।

প্রভাবের জন্য ভারত-চীন রেস

ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীনের সামরিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কে সতর্ক ছিল। এই অঞ্চলকে ভারত নিজের সাবেক প্রভাবের অঞ্চল হিসাবে দেখছে। চীনের সঙ্গে সীমান্ত ঝামেলা শুরুর পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত আরও উঠেপড়ে লেগেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, নয়াদিল্লি তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশি প্রথম’ নীতির আওতায় এই দেশগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক বিশেষভাবে উষ্ণ হয়ে উঠেছে এবং আজকাল, নয়াদিল্লি ঢাকাকে এই অঞ্চলে প্রবেশের দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে। তাছাড়া বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর জন্য ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে ভূমিকা রাখছে

জাপানও চীনের সীমান্তবর্তী বা কাছাকাছি এমন একটি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আগ্রহী এবং তারা এটা আরও উন্মুক্ত করতে ভারতের সাথেও কাজ করছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই পয়েন্টটি বেইজিংয়ের চোখ এড়ায়নি, কারণ তারা বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে দেখে।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে চীনা অস্ত্রের শীর্ষ তিন ক্রেতার মধ্যে ঢাকা অন্যতম ছিল।

ভারতের সামরিক বাহিনী ও বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন যে, বঙ্গোপসাগরে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে ভাগ করে নেওয়া বাংলাদেশ বন্দরগুলোতে স্থান হতে পারে যা চীনা যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনগুলো সেখানে ডক করতে দেবে।

ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী পানিতে তারা আরও বেশি চীনা জাহাজ সনাক্ত করেছে।

সিবাল বলেন, বেইজিং সচেতন ছিল যে, বাংলাদেশ তার সাথে বন্দর প্রকল্পে কাজ করতে দ্বিধা করছে কারণ এটি ভারতের পক্ষে সংবেদনশীল হবে।

তিনি বলেন, এটি (বাংলাদেশ) শ্রীলঙ্কার মতো নয় যারা ‘আরও বেশি ভারতকে প্রতিহত করেছিল’ এবং যেখানে চীন আরও ‘জড়িত’ ছিল।

শ্রীলঙ্কা ২০১৭ সালে চীনকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু থেকে ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দিয়েছে, যা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

তাছাড়া সাম্প্রতিককালে, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের ইস্ট টার্মিনাল যৌথভাবে কাজ করার ভারত-জাপান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্রীলঙ্কা, আর এটা চীনের নির্দেশে হয়েছে বলে সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে।

সিবাল বলেন: শ্রীলঙ্কা যেমনটা করেছে বাংলাদেশ চীনের সাথে তেমন কোনও বন্দরের সহযোগিতা না করলে সেটাই ভারতের পক্ষে যথেষ্ট হবে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক মার্কিন চিন্তাবিদ রিয়াজ বলেছেন, চীনা রাষ্ট্রদূত কোয়াড ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন, এটা অবাক হওয়ার মত মন্তব্য ছিল। তবে গত মাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গের কথারই প্রতিধ্বনি এটি।

ওয়েই ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ‘সামরিক জোট’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার জন্য উভয় দেশের এই অঞ্চলের বাইরের শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা করা উচিত।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেছেন, তিনি চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে হুমকিরূপে দেখেন না।

তিনি বলেন, বেইজিং ঢাকার অবস্থান জানত এবং পরবর্তীকালে ‘স্পষ্টতই কোনও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হওয়ার জন্য তার অনিচ্ছাকে ইঙ্গিত করেছে।’

তবে রিয়াজ বলেন, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল সম্পর্কে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বাংলাদেশ, কারণ চীনের সাথে তার সম্পর্ককে বিপন্ন করতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘(শেখ হাসিনা) সরকার অবস্থান পরিবর্তন একেবারে প্রয়োজনীয় না হওয়া পর্যন্ত কঠিন রাস্তায় হাঁটা চালিয়ে যাবে।

আলী রিয়াজ মতে, চীনা রাষ্ট্রদূত মনে করেন তার মন্তব্য করা ঠিক আছে এবং এটা উপযুক্ত সময়, কারণ বাংলাদেশ এখন করোনা টিকার জন্য বেইজিংয়ের উপর নির্ভরশীল।

নিজ দেশে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ভারত প্রতিবেশি দেশগুলোতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশগুলো চীনের কাছে সাহায্যের জন্য পৌঁছেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) নিরাপদ এবং কার্যকর হিসাবে অনুমোদ দেওয়া চীনা সংস্থা সিনোফর্মের উত্পাদিত ভ্যাকসিনের পাঁচ লক্ষ ডোজ এরই মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

সিবাল বলেন, ভারতের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি চীনকে একটি সুবিধা দিয়েছে। কারণ ঢাকা নয়াদিল্লির উপর নির্ভর করতে পারছে না।

সূত্র: সাউথ চায়না মনিং পোস্ট



Related posts