corona lockdown shibchar
সারাদেশে ১৪ দিন সর্বাত্মক শাটডাউনের সুপারিশ 

করোনার ডেলটা প্রজাতির ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে ১৪ দিনের কঠোর শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক…

অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার আনছে ফেসবুক 

শিগগিরই ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংয়ের জন্য নতুন ফিচার নিয়ে আসবে ফেসবুক। গতকাল নিজের ওয়ালে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত…

ব্রাজিলের বিতর্কিত গোলে রাগে ফুসছে কলম্বিয়া 

কোপা আমেরিকায় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। গতকাল বুধবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ২-১…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

বিশ্ব

ভারতের করুণ দশা কেন বিশ্বের জন্যই বিপদের? 

ভারতের করুণ দশা কেন বিশ্বের জন্যই বিপদের?

ভারতে যে বিপর্যয় ঘটেছে সেটাকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হিসাবে দেখা যায়, যা অনেকেই করোনা মহামারী থেকে আগেই ভয় পেয়েছিলেন। দেশটিতে পর্যাপ্ত হাসপাতালের শয্যা, পরীক্ষা, ওষুধ বা অক্সিজেনের প্রচণ্ড অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে আজ সোমবার (৭ জুন) পর্যন্ত দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৮৬ জনে। একই সময়ে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মানুষ সেখানে করোনা সংক্রমণের ঢেউয়ের নীচে ডুবে গেছে যেটা প্রতি ঘণ্টা ঘড়ির কাঁটার চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার দুটি বিরোধী অনুমান আছে। পশ্চিমের ধনী দেশগুলো একটি শিবিরে তাদের নিজস্ব প্রয়োজনের জন্য ভ্যাকসিনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আর স্বল্প উন্নত বা দরিদ্র দেশগুলোতে অগ্রাধিকারের চেয়ে জরুরি প্রয়োজনকে বেশি নির্দেশ করে।

এই বছরের শেষ অবধি বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন সরবরাহের সম্ভাবনা নেই, এখন আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোত্তম উদ্দেশ্য এবং সঠিকভাবে বিতরণ করার জন্য ভ্যাকসিন ভাগ করে নেওয়ার কোভাক্স উদ্যোগ, মহামারীটির জন্য আরও বেশি ফোকাসড ফায়ার ফাইটিংয়ের সময় প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে কখনও কখনও কঠিন এবং অপ্রিয় বা ক্ষেত্র বিশেষে জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়রে প্রয়োজন হতে পারে।

এর জন্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্য সঙ্কটের বাইরেও নজর রাখতে হবে, যাতে হস্তক্ষেপ ছাড়াই মহামারীটি আরও খারাপ হতে না পারে। বিশেষজ্ঞরা বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ভাইরাসটি পরীক্ষা করা বন্ধ করে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া বিপজ্জনক নতুন স্ট্রেনগুলোর উদ্ভব এবং মহামারী দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ আফ্রিকায় এইডস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রপতির জরুরি পরিকল্পনার অধীনে এবং পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলায় ২০১৪ সালের বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া সহ করোনার জন্য করার মতো মডেলগুলো ইতিমধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। যা আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার হিসাবে দেখা হয়েছিল।

বাস্তবতা হল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার দ্বারা প্রকাশিত ম্যাজিক্যাল চিন্তাভাবনা যেখানে, মার্চ মাসে দেশটি সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গের দিকে মনোনিবেশ করায় মহামারীর “শেষ” হয়েছিল বলে বলা হয়েছিল। অন্যান্য নেতাদের ভুলও খুব বেশি আলাদা ছিল না। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ভেবেছিলেন ভাইরাসটি কেবল অদৃশ্য হয়ে যাবে, বা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভুলভ্রষ্টতায় ভাইরাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

একটি ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং এমনকি দুর্বল নজরদারি সহ একটি দেশ যারা স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষতির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়াতে ভারতও একটি পরমাণু পদ্ধতির বিপদকে নাটকীয় করে তুলেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উত্পাদক, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া, কোভাক্স স্কিমের অধীনে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলিতে ডোজ সরবরাহ করার কথা ছিল। ডোজ এখন ভারতের প্রয়োজনের জন্য ডাইভার্ট করা হয়েছে, যা নিজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভ্যাকসিন উত্পাদনের জন্য উপাদান অর্জনের জন্য লড়াই করে চলেছে।

সংকটের ফলস্বরূপ, এই মাসে ভারত বিদেশে মাত্র ১.২ মিলিয়ন ডোজ দিতে পারবে যেটা তিন মাস আগের তুলনায় অনেক কম।

এই ফাঁকে এগিয়ে যাচ্ছে চীন, তারা ভ্যাকসিন কূটনীতির নিজস্ব সংস্করণকে প্রচুর পরিমাণে সামনে ঠেলে দিয়ে ভারতের তৈরি করা সেই শূন্যস্থান ইতোমধ্যে পূরণ করতে এগিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন যে, ‘চীন ভারতকে প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহায়তা দিতে রাজি আছে।’

তবে ভারতের অবিলম্বে যা দরকার তা হল তার ভ্যাকসিন কারখানার সরবরাহ, বর্তমানে মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার দ্বারা জর্জড়িত এবং জিনোমিক সিকোয়েন্সিংয়ের মতো সরঞ্জামগুলো বিদ্যমান এবং উদীয়মান বৈকল্পগুলি সনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য করা করা।

একটি আশাব্যঞ্জক লক্ষণ হল আমেরিকা ভারতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ‘দ্রুত ব্যবস্থা’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভারতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অতিরিক্ত সাহায্যের জন্য তারা উচ্চ-স্তরের আলোচনায় রয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অ্যান্টনি ফৌসি বলেছেন, অক্সিজেন সরবরাহ, পরীক্ষা, ওষুধের চিকিত্সা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম প্রেরণ সহ বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমান পেক্ষাপটে ভারতের টিকা তৈরি থেকে সার্বিক অবস্থা যদি খারাপ হয়, তবে সেটা শুধু ভারত নয়, অনেক উন্নত দেশসহ পুরো বিশ্বের জন্যেই সেটা বিপদের।

সূত্র: গার্ডিয়ান



Related posts