বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় অর্ধেকই আফগান 

২০২১ সালে বিশ্বে ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। সমাজ, সংস্কৃতি ও বিশ্বকে নতুন করে সাজাতে যে…

উমরাহ থেকে ফিরে আধা মিনিটের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান মাহি 

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপ ভাইরালের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ডা. মুরাদ হাসান…

টিউলিপ সিদ্দিক এখন ব্রিটেনের শ্যাডো ইকোনমিক সেক্রেটারি 

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন ছায়া মন্ত্রিসভার ইকোনমিক সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

ওপার বাংলা

মমতার জয় ভারতের রাজনীতিতেই বদল আনবে? 

মমতার জয় ভারতের রাজনীতিতেই বদল আনবে?

কেন্দ্রে প্রতাপের সঙ্গে ক্ষমতায় থাকা একটি দল যারা বিধানসভা নির্বাচনের পর দুটি রাজ্যে বিজয় উদযাপন করবে। যার একটি আসাম, সেখানে আগে থেকেই ক্ষমতায় ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি। তবে রোববারের (২ মে) ফলাফলের পর বিজেপি শিবিরে আলোড়ন এনেছে।

পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ’র নেতৃত্বাধীন বিজেপি। এমন নয় যে তারা কেরালা ও তামিলনাড়ুতে অলৌকিক কোনো কিছু প্রত্যাশা করেছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তাদের চাওয়াকে অনেক উচ্চাভিলাষীও মনে হয়েছিল, কারণ এই দলটিই এখানকার নির্বাচনে ২০১৬ সালে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় মাত্র তিনটি আসনে জিতেছিল।

যদিও নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ২০১৩ সালে কংগ্রেস-মুক্ত ভারত অর্জনের জন্য একটি সফল যাত্রা শুরু করেছিলেন, তারা আট বছর পরে সেটা আরও বাড়াতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। আর সেটা ছিল আঞ্চলিক দলগুলোকে পরাজিত করে একমাত্র বিজেপির ভারত অর্জন করা। সেই পথে পশ্চিমবঙ্গ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রোববারের পরাজয় আট বছরের মধ্যে মোদি-শাহ’র বৃহত্তম ছিল। এটি মোদির জনপ্রিয়তা এবং শাহের বহুল প্রচারিত ‘চাণক্যান’ কৌশল কংগ্রেসের জন্য মারাত্মক সংমিশ্রণ তৈরি করেছে, তবে সেটা লড়াই করার দক্ষতা এবং ইচ্ছাশক্তির অধিকারী আঞ্চলিক স্তরের দলগুলোর বিপক্ষে যথেষ্ট ভালো ছিল না। অরবিন্দ কেজরিওয়াল এর আগে দিল্লিতে সেটা করে দেখিয়েছিলেন, তবে তা তাত্পর্যপূর্ণ গুরুত্ব ধরে রাখার জন্য ক্ষেত্রটি খুব ছোট ছিল। ২০১৫ সালের বিহারের মতো একটি প্রাক-পোল মহাজোট বা মহারাষ্ট্রের তিনটি দলের গ্রুপিংয়ের পরেও পুরো চিত্রটি দেখা যায়নি। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-কংগ্রেস জোটের কাছে হেরেছে বিজেপি এবং বিহারে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক খারাপ ফল করেছে তারা।

পশ্চিমবঙ্গই ছিল আসল লড়াই। এখানে ছিলেন এক কট্টর আঞ্চলিক নেতা মমতা ব্যানার্জী, যাকে শুরুতে বিজেপির চেষ্টা ও পরীক্ষিত কৌশলের কাছে দুর্বল দেখাচ্ছিল। সুতরাং, আধিপত্যবাদী এবং সাধুবেশী-আত্মত্যাগী মোদির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয় মমতাকে। সেই সঙ্গে মমতার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কিছু ব্যর্থতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে করা সংখ্যালঘু তুষ্টির অভিযোগের রেকর্ড সবই বিজেপির পক্ষে মিলে যায়। এই কৌশলই কেন্দ্রে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আশ্চর্যজনকভাবে কাজ করেছে এবং বিজেপি ভেবেছিল মমতার বিরুদ্ধে এর সাফল্য হবে আঞ্চলিক পদক্ষেপের সমাপ্তির সূচনা।

সুতরাং,রোববারের ফলাফল কীভাবে জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনবে?

প্রথমত, এই ফলাফলের পর আঞ্চলিক শক্তিগুলো আরও উত্সাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে খুব ভয় পেয়েছিল। সুতরাং, উত্তর প্রদেশে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অখিলেশ যাদব-মায়াবতী-অজিত সিং জোট ব্যর্থ হওয়ার পরে, তারা বিজেপিকে হারাতে না পেরে আলাদা হয়ে গেল এবং একরকম কোমায় চলে গেল। মায়াবতী ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়াই করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দেন।

কর্ণাটকে এইচ.ডি. কুমারস্বামী সরকারের পতনের পরে, গৌড়স বিজেপির সাথে বন্ধুত্ব করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও পরে গেরুয়াদেরই বেছে নিয়েছেন। অন্ধ্র প্রদেশের জগন মোহন রেড্ডি এবং তেলঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের মতো অনেকের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফলাফলে এই বিষয়গুলো পরিবর্তিত হতে পারে, এই সমস্ত আঞ্চলিক দলকে একত্রিত করে মমতার চারপাশে সমাবেশ হতে দেখা যেতে পারে। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী বিজেপিকে হতাশ করতে তাদের আত্মবিশ্বাসকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন নি, তবে মোদি ও শাহকে নিয়ে মমতার বিজয় তাদেরকে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্তরেও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে ।

কংগ্রেসের আসাটা এখন কেবল সময়ের বিষয়, যেভাবেই হোক ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় তারা আসবে। রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রমাণিত সাফল্যের হার রয়েছে তবে আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে তাদের তেমন সাফল্য আসেনি। এটা এখনই বিজেপিকে চিন্তায় ফেলছে।

কোণঠাসা বিজেপি নেতারা পেছন থেকে ঠেলাঠেলি করতে পারেন

পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের দ্বিতীয় ফলাফল বিজেপির মধ্যেই হতে পারে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে, মোদির সমর্থন নিয়ে শাহ দলের উপর লৌহ ক্ষমতায় বসেছেন এবং গত বছর জে.পি নাদদা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও এটি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অর্থ হল যে, দলের যে নেতারা এই দুজনকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি তাদের সরে যেতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে এল.কে. আদবানী ও মুরলি মনোহর জোশীর মতো নেতাও রয়েছেন। আছেন বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং রমন সিংয়ের মতো গণ নেতাও।

রোববারের এই ধাক্কা কেবল মোদির জনপ্রিয়তার সীমাবদ্ধতা এবং শাহের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণীকে প্রকাশ করেছে তা নয়, ক্ষমতাসীন দলের যেকোনও বিদ্রোহকেও উদ্বুদ্ধ করবে। বিজেপি নেতারা জানেন যে, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি যতটা অকার্যকর হয়ে উঠুন না কেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদি এখনও তাদের একমাত্র আশা রয়েছেন। কিন্তু যে নেতারা আজ নিজেকে কোণঠাসা হিসেবে দেখছেন, তাদের কাছ থেকে ঠেলাঠেলি খাওয়ার সম্ভাবনা বাতিল হতে পারে না।

আগামী বছরের ইউপি এবং অন্যান্য রাজ্যে নির্বাচন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় ব্যর্থতার তৃতীয় পরিণতি উত্তরবঙ্গ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গোয়া এবং মণিপুরে- আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাউন্ডে হতে পারে। গুজরাট এবং হিমাচল প্রদেশ ২০২২ সালের শেষের দিকে নির্বাচন করতে চলেছে সরকার। কোভিডের অব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলোতে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতার উপর একটি বড় ছায়া ফেলেছে। কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাবের পর দলটি পশ্চিমবঙ্গে গতি হারালো।

এ ছাড়া, বিজেপি সাধারণত ভোটের মাঠে বিজয়ী হিসাবে প্রবেশ করে, বিরোধী শিবিরের যোগ্য নেতারা এবং গণমাধ্যমে বিজেপি কর্মীরা এজেন্ডা নির্ধারণ করে। মোদি-শাহকে ঘিরে অদম্যতার আভা একটি পরিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। গত বছরের প্রথম দিকে বিজেপি একটা অন্যভাব নিয়ে ভোটগ্রহণে যাচ্ছিল, সবই এখন হারিয়ে গেছে।

তো, মোদি-শাহের বিকল্পগুলো কী কী? তারা যদি রোববারের ফলাফল থেকে তাদের রাজনীতির পাঠ শিখেন তবে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন। মোদির জনপ্রিয়তা বাদে বিজেপির সাফল্য মূলত এর মেরুকরণ করা হিন্দু-মুসলিম রাজনীতিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন রাজ্যে এটি কাজ করছে বলে মনে হয় না। এই সমস্ত-সম্ভাব্য কৌশলও বোধ হয় ক্রমশ ভোটারদের কাছ থেকে ডাউনের দিকে যাচ্ছে। এই ফলের পর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো, আইন প্রয়োগকারী অধিদপ্তর, আয়কর বিভাগ এবং এমনকি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর মতো এজেন্সিগুলোও তাদের নির্বাচনী মূল্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে বলে মনে হয়।

মোদি এবং শাহ যদি তাদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশলগুলো কঠোরভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ইমেজকে ‘বিকাশ পুরুষ’ হিসাবে পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণের কাজ করেন, তবে ভারতের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র: দ্য প্রিন্ট



Related posts