শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি
শিশুর স্মার্টফোনে আসক্তি কমবে যেভাবে 

তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে স্মার্টফোন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। প্রায়ই দেখা যায়, অভিভাবকরা…

মেসি-দিবালা-লাওতারোদের ছাড়াই ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা 

মেসি-দিবালা-লাওতারোদের ছাড়াই ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য রাজি হয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল ছাড়াও আরেক লাতিন পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের…

ইন্টারনেটে নিপীড়ন
ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার ৩০ শতাংশ শিশু 

৩০ শতাংশ শিশু করোনাকালে কোনও না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১২ শতাংশ শিশু এ বিষয়ে কোনও তথ্য…

সব সংবাদ-তথ্য-ভিডিও

ওপার বাংলা

৩০ বছর পর জানতে পারলেন তিনি আসলে ‘পুরুষ’ 

৩০ বছর পর জানতে পারলেন তিনি আসলে ‘পুরুষ’

চেহারায়, আচারণে, শারীরিক গঠনে পুরোপুরি একজন নারী হিসেবেই ৩০টি বছর পার করেছেন ভারতের পশ্চিমবাংলার বীরভূমের এক বাসিন্দা। কিন্তু এত বছর পর জানতে পারলেন তিনি একজন পুরুষ।

বিপত্তি ঘটে হঠাৎ করে তার পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হওয়ায়। এই লকডাউনের মধ্যেই অনেক ঝামেলা সামলে ওই নারীকে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা যা জানালেন তাতে চক্ষু চড়কগাছ সবার।

চিকিৎসকরা জানান, টেস্টিকুলার ক্যান্সারে ভুগছেন তিনি। অর্থাৎ তিনি জিনগতভাবে আসলে পুরুষ। কারণ পুরুষদের যৌনাঙ্গের ক্যান্সারেরই একটি প্রকার হল টেস্টিকুলার ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানান এই ধরণের ক্যান্সার (Woman with Testicular Cancer) শারীরিকগঠনের কারণেই কোনো নারীর হওয়া সম্ভব নয়। ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডা. অনুপম দত্ত এবং সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডা. সৌমেন দাস ওই নারীর শরীরের যাবতীয় পরীক্ষার পর জানতে পারেন, আসলে জন্ম থেকেই ‘অ্যান্ড্রোজেন সেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম’ (Androgen Insensitivity Syndrome) নামে একটি বিরল রোগের শিকার তিনি। প্রতি ২২ হাজার মানুষর মধ্যে ১ জনের শরীরে এমন রোগ থাকে। এর ফলে একটি শিশু জেনেটিক্যালি পুরুষ হিসেবেই জন্ম নেয় কিন্তু তার মধ্যে একজন নারীর সমস্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে।

৯ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। চিকিৎসকদের জানান, তার সঙ্গে কথা বললে বা তাকে দেখলে কারো মনেই এই সন্দেহ জাগার কথা নয় যে তিনি জেনেটিক্যালি পুরুষ। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ডা. অনুপম দত্ত বলেন, তাকে দেখলে বা তার কণ্ঠস্বর শুনলে আপনার কোনভাবেই মনে হবে না যে তিনি জেনেটিক্যালি পুরুষ। স্তন থেকে শুরু করে জননেন্দ্রিয়, একজন নারীর মতো সব কিছুই রয়েছে তার শরীরে। কিন্তু জন্মের সময় থেকেই তার জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কোনোটাই ছিল না। এমনকি জীবনে কখনো ঋতুস্রাবও হয়নি তার।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির খুব পেটে যন্ত্রণা হওয়ার কারণে আমরা বেশ কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে দেখি। কিন্তু তাতে দেখা যায়, তার শরীরে অণ্ডকোষ রয়েছে। বায়োপসি করানো হয়। তারপরই ধরা পড়ে যে, তিনি আসলে টেস্টিকুলার ক্যানসারে আক্রান্ত।

বর্তমানে ওই ব্যক্তির শরীরে কেমোথেরাপি চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

কিন্তু যিনি এতদিন মহিলা হিসাবে নিজেকে জেনে এসেছেন, হঠাৎ করে তার শরীরে পুরুষত্বের প্রমাণ মেলায় কতটা স্বাভাবিক থাকতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার, এ সম্পর্কে চিকিৎসকদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, হ্যাঁ, একজন নারী হিসেবেই বড় হয়েছেন তিনি। প্রায় এক দশক ধরে বিবাহিত জীবনও কাটিয়েছেন তিনি। তাই আমরা এখন তাকে ও তার স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছি, যে ভাবে এতগুলো বছর তাঁরা দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে এসেছেন, ঠিক সেই ভাবেই বাকি জীবনটা যেন কাটান তারা।

জানা গেছে, ওই দম্পতি গত কয়েকবছর ধরে বেশ কয়েকবার গর্ভধারণের চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিলেন না। তবে বর্তমানে জানা গেল তার আসল কারণ।

সম্ভবত এই রোগটি জিনগত, একথাও বলেন চিকিৎসক অনুপম দত্ত। বলেন, তার দুই খালারও এই একই ধরনের রোগ ছিল। অর্থাৎ তারাও অ্যান্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি রোগাক্রান্ত ছিলেন। সম্ভবত এই রোগটি জিনগতই। এর থেকে বেশি আমরা বিরল এই রোগটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছু জানতে পারিনি।



Related posts